স্পোর্টস ডেস্ক: আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। উত্তেজনায় ভরা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লিওনেল স্কালোনির দল। তবে জয়ের আনন্দের মধ্যেও আবেগঘন এক মুহূর্ত তৈরি করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি এই ঐতিহাসিক জয়টি উৎসর্গ করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার পরই নিজেদের পরিচিত ছন্দে ফিরে আসে আলবিসেলেস্তেরা। দারুণ বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ এবং ধারাবাহিক চাপের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল লিওনেল মেসির সরাসরি অবদান। তাঁর নিখুঁত পাস ও অসাধারণ খেলার পরিকল্পনা থেকে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কেটে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
এই জয় শুধু একটি ফাইনাল নিশ্চিত করার গল্প নয়, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের এক আবেগঘন স্মৃতিও নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে। ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা লিখেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়। সেই ম্যাচেই জন্ম নিয়েছিল কিংবদন্তি 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'।
চার দশক পর আবারও ইংল্যান্ডকে একই ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠায় যেন ম্যারাডোনার সেই স্মরণীয় দিনের প্রতিধ্বনি ফিরে আসে। ফলে এই জয় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য হয়ে ওঠে আরও বেশি আবেগের।
ম্যাচ শেষে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন,
"কোনো সন্দেহ নেই, ডিয়েগো ওপর থেকে এই মুহূর্তটি উপভোগ করছেন। আজকের দিনটি তাঁর জন্য খুবই বিশেষ। আমরা এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করতে পেরে গর্বিত। আশা করি, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের এই আনন্দ উপভোগ করছেন। এই জয় তাঁর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট উপহার।"
মেসির এই বক্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীও ম্যারাডোনার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রশংসা করেন।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে আর মাত্র একটি ম্যাচ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ বাধা পেরোতে পারলেই বিশ্ব ফুটবলে আরও একটি ইতিহাস রচনা করবে মেসির দল।

