দুই মাসের শিশুকে পা মুচড়ে নির্যাতন
প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে
নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার ওরফে লতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
রাতে নরসিংদী র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাবের একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছিল। শুক্রবার বিকেলে রূপগঞ্জে তার অবস্থান শনাক্ত হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরিফুল ইসলাম বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন একটি জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে।”
ভাইরাল ভিডিওতে উঠে আসে নির্মমতা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, খাটে শুয়ে থাকা দুই মাস বয়সী শিশুর কাছে গিয়ে তার চাচি ফারজানা আক্তার একটি পায়ে জোরে মোচড় দেন। শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। এরপর দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
পরে জানা যায়, ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ঘটেছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে?
শিশুটি জহিরুল হক ও সায়েবা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার তাদের বড় ভাই কাওছার হকের স্ত্রী। একই একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতেন সবাই।
মামলার বাদী ও জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার জানান, দুই জায়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই শিশুর ওপর এমন নির্মম ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারটি প্রথমে অভিযোগ করতে চাইছিল না। কিন্তু শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়া স্বস্তিদায়ক।”
মামলা ও গ্রেপ্তার
১৪ জুলাই রাতে তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা হয়। আসামিরা হলেন—
- ফারজানা আক্তার (৩২) – প্রধান আসামি
- তাঁর স্বামী কাউছার আহম্মেদ (৩৩)
- তাঁর বাবা আলমাছ মিয়া (৬০)
মামলার রাতেই কাউছার ও আলমাছ গ্রেপ্তার হন। তবে ফারজানা আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার র্যাবের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সমাজে উদ্বেগ
দুই মাস বয়সী একটি শিশুর ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিশু সুরক্ষা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
নিষ্পাপ এক শিশুর কান্না যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—পরিবারের ভেতরেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
